Home » জ্ঞানেশের পর এবার মোদি! ‘ভারতের লজ্জা প্রধানমন্ত্রী’—বিস্ফোরক অভিজিৎ দীপকের

জ্ঞানেশের পর এবার মোদি! ‘ভারতের লজ্জা প্রধানমন্ত্রী’—বিস্ফোরক অভিজিৎ দীপকের

by adminMrittka
0 comments

এতদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়েই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।

রবিবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন অভিজিৎ দীপকে। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জা। তাঁর অভিযোগ, দেশের মানুষ এর আগে এমন ‘কাপুরুষ’ ও ‘জুলুমবাজ’ শাসক দেখেনি।

দীপকের এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে দিল্লিতে সিজেপির আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ধরপাকড়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। শনিবার দিল্লিতে সেই কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। আন্দোলনের আগে অভিজিৎ দীপকে, সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। তাঁদের দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমানবন্দর থেকেই আটক করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর রবিবার দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়। তবে শর্তসাপেক্ষে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে সিজেপির তরফে জানানো হয়েছে। আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ হতে পারে—এমন কোনও কাজে জড়ানো যাবে না, এই ধরনের শর্ত তাঁদের উপর আরোপ করা হয়েছে বলে খবর।

মুক্তির পরেও অবশ্য আন্দোলনের সুর নরম করেনি সিজেপি। দলের নেতাদের দাবি, তাঁদের আটক করে আন্দোলন থামানো সম্ভব নয়। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি থেকে তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না বলেও জানানো হয়েছে। সিজেপির অন্যান্য নেতারাও কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অভিজিৎ দীপকের মন্তব্যের পাশাপাশি দিল্লির পরিস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির একাধিক এলাকায় ব্যারিকেড, যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং ধরপাকড়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে পুলিশ ও কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে বিরোধী শিবিরও সরব হয়েছে।

সিজেপির অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের আটক করে সরকার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে দমন করার চেষ্টা করছে। যদিও প্রশাসনের তরফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের যুক্তিই সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করার দিকে এগোচ্ছে। অভিজিৎ দীপকের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। আগামী দিনে দিল্লিতে এই আন্দোলনের আঁচ কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment