Home » অরুণাচল সীমান্তে ‘সমস্যা আছে’, স্বীকার রিজিজুর; ৬০ কিমি চিনা অনুপ্রবেশের দাবি খারিজ!

অরুণাচল সীমান্তে ‘সমস্যা আছে’, স্বীকার রিজিজুর; ৬০ কিমি চিনা অনুপ্রবেশের দাবি খারিজ!

Warning: Camera accessories you shouldn’t buy cheap

by adminMrittka
0 comments

Heading Title

নয়াদিল্লি, ১৯ অগস্ট: অরুণাচল প্রদেশের ভারত-চিন সীমান্ত নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা। চিনা সেনা ভারতীয় ভূখণ্ডে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে পড়েছে—এমন দাবি সরাসরি খারিজ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, সীমান্তের কিছু অংশে সুনির্দিষ্টভাবে সীমানা নির্ধারণ বা delineation না থাকায় সমস্যা রয়েছে।

রিজিজুর বক্তব্য অনুযায়ী, অরুণাচলের সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাঁদের উদ্বেগকে অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, ভারত-চিন সীমান্তের কিছু অংশ এখনও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত বা demarcated নয়। ফলে কোন এলাকা কোন দেশের প্রকৃত সীমার মধ্যে পড়ে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন দাবি তৈরি হয়েছে।

৬০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের দাবি ‘ভুল’

রিজিজু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চিনা সেনা অরুণাচল প্রদেশের ভিতরে ৬০ কিলোমিটার ঢুকে পড়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে এমন প্রচার করা হচ্ছে, যা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, বিষয়টিকে এমনভাবে দেখানো ঠিক হবে না যে চিন এসে কোনও ভারতীয় গ্রাম দখল করে নিয়েছে। বরং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমান্তের সঠিক delineation না থাকার কারণে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

কোথায় তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি?

রিজিজুর ব্যাখ্যা, ভারতীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস—তাঁদের জমির সীমানা আরও এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে সীমান্তের চিনা দিকে থাকা স্থানীয় ও তিব্বতি জনগোষ্ঠীরও কিছু এলাকায় নিজেদের ভূখণ্ড নিয়ে দাবি রয়েছে। স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ না থাকায় এই দুই ধরনের দাবির মধ্যে সংঘাত তৈরি হচ্ছে।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন অরুণাচলের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা, বিশেষ করে লংজু ও তাকসিং সেক্টর ঘিরে চিনা কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ ও দাবি সামনে এসেছে। এর আগে ভারতীয় সেনাও অরুণাচলে চিনা বাহিনীর সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশ বা দখলদারির অভিযোগকে ‘ভুল এবং ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছিল।

এর আগে কী বলেছিল অরুণাচল সরকার?

জুলাই মাসে অরুণাচল প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামা নাটুংও তাকসিং এলাকায় চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ খারিজ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, অরুণাচল প্রদেশের কোনও অংশেই চিনা বাহিনী ঢুকে পড়েনি এবং ভারতীয় জওয়ানরা সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু সংগঠন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করার দাবি তুলেছে। এর ফলে সরকারি বক্তব্য এবং স্থানীয় পর্যায়ের দাবির মধ্যে পার্থক্য নিয়ে অরুণাচলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

চিনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা

ভারত ও চিনের মধ্যে অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। চিন অরুণাচলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, অন্যদিকে ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে যে অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তের কিছু অংশে সুনির্দিষ্ট demarcation না থাকা বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এর আগে চলতি মাসেও চিন জানিয়েছিল যে ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতি বর্তমানে ‘সাধারণভাবে স্থিতিশীল’। তবে অরুণাচল ঘিরে নির্দিষ্ট কিছু সামরিক কার্যকলাপের রিপোর্ট নিয়ে চিন বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

রাজনৈতিক চাপানউতোরও বাড়ছে

অরুণাচল সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী চিনা বাহিনীর কার্যকলাপ এবং ভারতীয় সেনার টহল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অবশ্য ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এই আবহে রিজিজুর বক্তব্যে একদিকে সীমান্তের বাস্তব সমস্যার কথা স্বীকার করা হয়েছে, অন্যদিকে ৬০ কিলোমিটার চিনা অনুপ্রবেশ বা ভারতীয় গ্রাম দখলের অভিযোগকে সম্পূর্ণ নাকচ করা হয়েছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সীমান্তের যে অংশগুলি এখনও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়, সেখানে পরিস্থিতি কতটা দ্রুত পরিষ্কার করা সম্ভব এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের কীভাবে সমাধান হবে।

সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট—অরুণাচলে চিনা বাহিনীর ৬০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের দাবি সঠিক নয়। কিন্তু সীমান্তের কিছু অংশে সীমানা নির্ধারণের জটিলতা যে রয়েছে, সেটিও এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

You may also like

Leave a Comment