Home » শহরের বুকে ফের বুলডোজারের তাণ্ডব! মল্লিকবাজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ঝুপড়ি, ছড়াল তীব্র আতঙ্ক!

শহরের বুকে ফের বুলডোজারের তাণ্ডব! মল্লিকবাজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ঝুপড়ি, ছড়াল তীব্র আতঙ্ক!

Warning: Camera accessories you shouldn’t buy cheap

by adminMrittka
0 comments

Heading Title

কলকাতা, ১৯ আগস্ট: শহরের বুকে ফের উচ্ছেদ অভিযানে নামল প্রশাসন। কলকাতার মল্লিকবাজার এলাকায় বুধবার ঝুপড়ি ও অস্থায়ী নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানোর ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযানের জেরে এলাকায় তৈরি হয় উত্তেজনা। ভেঙে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু ঝুপড়ি ও অস্থায়ী কাঠামো বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন প্রশাসনের কর্মী ও যন্ত্রপাতি নিয়ে এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আগে থেকেই উচ্ছেদের প্রস্তুতি থাকলেও বুলডোজার পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঝুপড়িতে থাকা মানুষজন নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। চোখের সামনে ঘর ভেঙে পড়তে দেখে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযানের কারণ হিসেবে বেআইনি বা অননুমোদিত নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতগুলি কাঠামো ভাঙা হয়েছে এবং উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের কী ধরনের নোটিস দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।

মল্লিকবাজার শহরের অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। এখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী বসতি ও নির্মাণকে ঘিরে নানা নাগরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফলে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে পুনর্বাসন, জীবিকা এবং শহরের জমি ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

অভিযান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করার পর হঠাৎ করে ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, উচ্ছেদ করা হলে বিকল্প বাসস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কী হবে, সেটিও প্রশাসনের স্পষ্ট করা উচিত।

অন্যদিকে, শহরের সৌন্দর্যায়ন, রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অননুমোদিত নির্মাণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। তবে কলকাতা হাইকোর্ট সাম্প্রতিক একাধিক মামলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে।

ফলে মল্লিকবাজারের এই অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কী কারণে এই নির্দিষ্ট কাঠামোগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল, কতদিন আগে নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলির পুনর্বাসনের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

শহরের বিভিন্ন প্রান্তে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। একদিকে বেআইনি দখল সরানোর দাবি, অন্যদিকে গরিব ও দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের প্রশ্ন—দুই দিকের ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

মল্লিকবাজারে বুলডোজার অভিযানের পর এলাকায় পরিস্থিতি আপাতত নজরদারিতে রয়েছে। প্রশাসনের তরফে পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি সামনে এলে উচ্ছেদের কারণ, নোটিস এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

You may also like

Leave a Comment