Home » টাইব্রেকারে জিতে সেমিতে, ছন্নছাড়া মোহনবাগানের ত্রাতা বিশাল

টাইব্রেকারে জিতে সেমিতে, ছন্নছাড়া মোহনবাগানের ত্রাতা বিশাল

Warning: Camera accessories you shouldn’t buy cheap

by adminMrittka
0 comments

Heading Title

ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নাটকীয় জয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াই শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। এরপর টাইব্রেকারে গিয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়। আর সেখানেই সবুজ-মেরুনের ত্রাতা হয়ে উঠলেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। তাঁর দুরন্ত সেভের সৌজন্যে জামশেদপুর এফসিকে ৯-৮ ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল মোহনবাগান।

ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য মোহনবাগানের খেলায় খুব একটা ছন্দ দেখা যায়নি। আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে জামশেদপুরও সুযোগ তৈরি করছিল। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই দলই গোলের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠে।

মোহনবাগানের হয়ে প্রথম গোলটি আসে সাহাল আবদুল সামাদের পা থেকে। তাঁর গোলে এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন শিবির। কিন্তু সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি মোহনবাগান। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই দেবেন্দ্র মুরগাঁওকর জামশেদপুরের হয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য দুই দলই একাধিক আক্রমণ চালায়। মোহনবাগান বলের দখল নেওয়ার চেষ্টা করলেও জামশেদপুরের রক্ষণ বারবার তাদের আটকে দেয়। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও কোনও দলই আর গোল করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।

এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর সেখানেই শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস নাটক। একের পর এক পেনাল্টিতে দুই দলের ফুটবলাররা গোল করতে থাকেন। প্রথম আটটি করে পেনাল্টিতে কোনও দলই সুবিধা করতে পারেনি। পরিস্থিতি গিয়ে দাঁড়ায় ৮-৮-এ।

নবম পেনাল্টিতে দায়িত্ব নেয় মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। জামশেদপুরের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে দেন তিনি। সেই মুহূর্তেই ম্যাচের পাল্লা ঘুরে যায় সবুজ-মেরুনের দিকে। এরপর অভি মেইতেই নিজের পেনাল্টি থেকে গোল করে মোহনবাগানের জয় নিশ্চিত করেন। টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে জিতে শেষ চারে জায়গা করে নেয় মোহনবাগান।

ম্যাচের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে মোহনবাগান শিবির খুব একটা স্বস্তিতে থাকবে না। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের খেলায় মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে বেশ কিছু ভুল চোখে পড়েছে। তবে নকআউট ফুটবলে শেষ পর্যন্ত ফলটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ফল এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল কাইথের অবদান অনস্বীকার্য।

টাইব্রেকারে আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন বিশাল। চাপের মুহূর্তে তাঁর সেভই মোহনবাগানকে বিদায় নেওয়ার বদলে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দিল। গত কয়েক মরসুমে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে বিশালের ভূমিকা একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। এদিনও সেই নির্ভরতার জায়গাটিই আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি।

জামশেদপুরের লড়াই শেষ হলেও মোহনবাগানের সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। সেমিফাইনালে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলতে হবে সবুজ-মেরুনকে। কোয়ার্টার ফাইনালে যে জায়গাগুলিতে ঘাটতি ছিল, সেগুলি দ্রুত শুধরে নিতে না পারলে পরের ম্যাচে বিপদ বাড়তে পারে।

তবে আপাতত স্বস্তি সবুজ-মেরুন শিবিরে। ছন্নছাড়া ফুটবল, বারবার সুযোগ নষ্ট এবং টাইব্রেকারের চরম চাপ—সবকিছুকে পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মোহনবাগানকে সেমিফাইনালে তুলেছেন বিশাল কাইথ। নকআউট ফুটবলে গোলরক্ষকের একটি সেভ যে গোটা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, এদিন তারই আরও একবার প্রমাণ মিলল।

You may also like

Leave a Comment