Heading Title
পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প ঘিরে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। আবেদন করার পরেও বহু মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা না ঢোকায় প্রশ্ন উঠছে—কবে মিলবে প্রতিশ্রুত অর্থ? বিভিন্ন জায়গা থেকে উপভোক্তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগের খবরও সামনে এসেছে।
সরকারি ঘোষণায় যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ১৭ অগস্ট থেকে নতুন কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে একইসঙ্গে প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের তথ্য যাচাইয়ের পরই টাকা পাঠানো হচ্ছে। আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, নাগরিকত্ব ও অন্যান্য নথির তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন আটকে যাচ্ছে টাকা?
প্রশাসনিক সূত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আবেদনকারীর তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথির অসঙ্গতি থাকলে আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে যেতে পারে। আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের ভুল, ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত সমস্যা, পরিবারের সদস্যের সরকারি চাকরি বা পেনশন, আয়কর সংক্রান্ত তথ্য—এই ধরনের বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন যাচাইপর্বে বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আবেদন বাতিল মানেই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে প্রকল্প থেকে বাদ পড়া নয়। কিছু আবেদন ‘Under Inquiry’ অবস্থায় রেখে বাড়ি বাড়ি তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তা সুবিধা পেতে পারেন।
বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ
এর আগেও রাজ্যের একাধিক এলাকায় অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মহিলাদের সরকারি অফিস বা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে দেখা গিয়েছে। পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুরে টাকা না ঢোকার অভিযোগে মহিলাদের বিডিও অফিসে বিক্ষোভের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। হাওড়ার ডোমজুড়েও প্রকল্প নিয়ে মহিলাদের ক্ষোভের কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
নদিয়া জেলার ক্ষেত্রেও অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের বহু উপভোক্তার নাম নতুন তালিকায় দেখা যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক মহিলার মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ—আগে যে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল, নতুন প্রকল্পে সেই সুবিধা আদৌ মিলবে কি না।
অভিযোগ জানাবেন কীভাবে?
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁদের আবেদন নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অভিযোগ বা আপিল জানানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অগস্টের শেষ সপ্তাহে অভিযোগ জানানোর পোর্টাল চালুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের আবেদন বাতিল বা আটকে রয়েছে, তাঁরা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিডিও বা এসডিও অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন।
নতুন আবেদন বা প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য ২৫ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়সীমার কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই টাকা না ঢোকার কারণ জানতে উপভোক্তাদের নিজেদের আবেদন-সংক্রান্ত তথ্য ও ব্যাঙ্কের নথি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন একটাই—কবে মিলবে টাকা?
অন্নপূর্ণা ভান্ডারকে ঘিরে সরকারের বড় প্রতিশ্রুতি ছিল মহিলাদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। ইতিমধ্যে বহু মহিলা টাকা পেলেও এখনও যাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি, তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উৎকণ্ঠা। প্রশাসনের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছবে—এমনটাই সরকারের বক্তব্য।
ফলে এখন নজর থাকবে, যাঁদের টাকা এখনও আটকে রয়েছে তাঁদের যাচাই কত দ্রুত শেষ হয় এবং কতজন মহিলার অ্যাকাউন্টে পরবর্তী কিস্তিতে ৩,০০০ টাকা পৌঁছয়। অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত কীভাবে সামলায় প্রশাসন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
- ‘জন্মের আগেই পাশ’জন্ম ১৯৬৬, মাধ্যমিক ১৯৬৫!হাসিরানি রথকে ঘিরে বিতর্কে বড় রায়, বাতিল হল না প্রার্থীপদ
- শারীরিক অবস্থার উন্নতি, হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেন মীরা ভট্টাচার্য,‘এখন ভালো আছি’
- আই-প্যাক ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে ইডির বিস্ফোরক দাবি! ‘রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা নেই’, সিবিআই তদন্তের আর্জি তৃণমূলের!
- মমতার সভার আগে হুগলিতে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য, চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ

