Heading Title
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত আরও জটিল হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের বেঞ্চে এই মামলাকে ঘিরে দীর্ঘ শুনানি হয়।
এর আগে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ঋতব্রত-নেতৃত্বাধীন শিবিরের দাবি ছিল, তাদের সঙ্গে তৃণমূলের অধিকাংশ বিধায়ক রয়েছেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। এই দুই দাবিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় আইনি লড়াই।
ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও ওঠে—শুধু বিধায়কদের সংখ্যার ভিত্তিতে কি বিরোধী দলনেতা নির্ধারণ করা যায়? কোনও রাজনৈতিক দলের ভিতরে বিভাজন তৈরি হলে নির্বাচন কমিশন কোন পক্ষকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, সেটিও কি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন? আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলে।
শোভনদেবের পক্ষের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, বিধানসভায় নির্বাচিত বিধায়কেরা তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে জিতেছেন এবং দলের সাংগঠনিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষ থেকে বিধানসভার ভিতরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
এই মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর ডিভিশন বেঞ্চ রায় সংরক্ষণ করে। ফলে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
তবে এর মধ্যেই বিধানসভার কার্যক্রমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সক্রিয় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বিধানসভা সংক্রান্ত কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে। এমনকি বিধানসভার বিভিন্ন কমিটিতেও তাঁর শিবিরের বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে আপাতত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানই কার্যকর থাকছে—কিন্তু এই স্বীকৃতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি প্রশ্ন পুরোপুরি মেটেনি। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলের কোন অংশকে শেষ পর্যন্ত বৈধ সংগঠন হিসেবে নির্বাচন কমিশন স্বীকৃতি দেয়, সেই বিষয়টি এই লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থাৎ, বিধানসভায় ঋতব্রতই এখন বিরোধী মুখ, কিন্তু বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে শেষ কথা এখনও বলা হয়নি। আগামী দিনের আদালতের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।
সূত্র: কলকাতা হাই কোর্টে চলা মামলার শুনানি ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।
- শারীরিক অবস্থার উন্নতি, হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেন মীরা ভট্টাচার্য,‘এখন ভালো আছি’
- গণপতি উৎসবে ফুলের বাজারে লক্ষ্মীলাভ! জগন্নাথঘাটে ১৫ লক্ষের দুর্বা, ২৫ লক্ষের জবা বিক্রি
- বিপর্যয় মোকাবিলায় ‘অর্জুন বাহিনী’, ২০০ প্রাক্তন অগ্নিবীর ও সেনাকর্মী নিয়ে নতুন বিশেষ বাহিনী
- তারাপীঠে হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া প্রশাসন, কৌশিকী অমাবস্যার আগে শুরু বিশেষ ‘সেফটি অডিট’

