Heading Title
তারাপীঠে ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। কৌশিকী অমাবস্যার আগে হোটেল ও লজগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বিশেষ অডিটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বীরভূমের তারাপীঠে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক পুণ্যার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের আবহ। এরই মধ্যে সামনে এসেছে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠের হোটেল ও লজগুলিতে বিশেষ ‘সেফটি অডিট’ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা দ্রুত চিহ্নিত করা।
সোমবার ভোরে তারাপীঠের একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজনও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আগুনের ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পরেই তারাপীঠের হোটেল-লজগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই তারাপীঠের হোটেল ও লজগুলি পরিদর্শনের জন্য একটি অডিট প্যানেল গঠনের কথা জানানো হয়েছে। এই পরিদর্শনে হোটেলগুলির সামগ্রিক নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং নিয়মকানুন মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
কারণ, আর মাত্র কিছুদিন পরেই কৌশিকী অমাবস্যা। এই তিথিকে ঘিরে প্রতি বছর তারাপীঠে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। ফলে হোটেল, লজ, আশ্রম ও অন্যান্য আবাসনগুলিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। অতীতে কৌশিকী অমাবস্যার সময় তারাপীঠে লক্ষাধিক মানুষের ভিড়ের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল—উৎসবের সময় বিপুল জনসমাগমের মধ্যেও কীভাবে প্রতিটি পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। বিশেষ করে বহু তলা হোটেলগুলিতে জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং বিপদের সময় দ্রুত অতিথিদের বের করে আনার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই বিষয়গুলিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
হোটেল অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার পর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের মধ্যেও। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে সমস্ত হোটেলে তাঁরা রাত কাটাচ্ছেন, সেগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ যথেষ্ট কি না। প্রশাসনের সেফটি অডিট সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, তারাপীঠের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হোটেল ও লজ মালিকদের কাছেও এই অডিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিরাপত্তার ঘাটতি ধরা পড়লে তা দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন। আবার নিরাপত্তার মান নিশ্চিত করা গেলে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের মধ্যেও আস্থা ফিরবে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, সেফটি অডিটে কী কী ত্রুটি সামনে আসে এবং সেই ত্রুটিগুলির বিরুদ্ধে কতটা দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।
তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যার ভিড় সামলানোর পাশাপাশি এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ভক্তদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করতে পারবে প্রশাসন? হোটেলগুলির সেফটি অডিটের ফলাফলই দিতে পারে সেই প্রশ্নের উত্তর।
- ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অভ্যাস খারাপ’, অন্নপূর্ণা বিক্ষোভ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মন্ত্রী দিলীপের
- বিজেপির রাজ্যসভা তালিকায় কোয়েল! নাম প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীদের কটাক্ষ, জোর চর্চা
- ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা! ২ মাসের নির্দেশ আদালতের—এরপরই শুরু বড় আইনি লড়াই?
- বিপর্যয় মোকাবিলায় ‘অর্জুন বাহিনী’, ২০০ প্রাক্তন অগ্নিবীর ও সেনাকর্মী নিয়ে নতুন বিশেষ বাহিনী

