Heading Title
তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা NCPI-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দলত্যাগ-বিরোধী আইনের মামলায় বড় পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ওই ২০ সাংসদকে নোটিস দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তাঁদের প্রত্যেককে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে।
মামলাটি মূলত লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ২০ জন সাংসদের সাংসদপদ খারিজের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিকে কেন্দ্র করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, দলত্যাগের অভিযোগে ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে আবেদন জমা পড়লেও দীর্ঘ সময় ধরে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্যই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
কী ঘটেছিল?
চলতি বছরের জুনে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ২০ জন লোকসভা সাংসদ দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে NCPI-র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা জানান। পরে তাঁরা সংসদে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছেন এবং NDA-র বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, ওই সাংসদরা দলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর অন্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে সংবিধানের দশম তফসিলের দলত্যাগ-বিরোধী আইন কার্যকর হওয়া উচিত। সেই যুক্তিতেই তাঁদের সাংসদপদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান হল, তাঁদের দলবদল বা গোষ্ঠী পরিবর্তন আইনসঙ্গত এবং তাঁরা বৈধভাবে NCPI-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ফলে তাঁদের সাংসদপদ খারিজের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
স্পিকারের কাছে আবেদন, তারপর সুপ্রিম কোর্টে অভিষেক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার কাছে ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে দ্রুত শুনানি ও সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়ে তিনি স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেন। জুলাই মাসেও তিনি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন করেছিলেন বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।
অভিষেকের বক্তব্য ছিল, দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকলে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের উদ্দেশ্যই কার্যত ব্যাহত হতে পারে। এই অভিযোগ সামনে রেখেই তিনি সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
আদালতে কী হল?
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালত ২০ জন অভিযুক্ত সাংসদকে নোটিস দিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে।
শুনানিতে লোকসভা স্পিকারের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, স্পিকার ইতিমধ্যেই ওই ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া দলত্যাগের অভিযোগের বিষয়ে নোটিস জারি করেছেন। এরপর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করেন, শুধু নোটিস জারি করাই বিষয় নয়—পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।
স্পিকারের সাংবিধানিক পদকে সামনে রেখে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি নোটিস জারি না করার বিষয়েও আদালতে আলোচনা হয়। সলিসিটর জেনারেল স্পিকারের হয়ে সওয়াল করবেন বলে জানান। এরপর আদালত মূলত ২০ জন সাংসদের কাছ থেকেই জবাব চায়।
কারা রয়েছেন তালিকায়?
সুপ্রিম কোর্টের নোটিস পাওয়া ২০ সাংসদের মধ্যে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, পার্থ ভৌমিক, অরূপ চক্রবর্তী, অধিকারী দীপক দেব, সায়নী ঘোষ, বাপি হালদার, মহম্মদ আবু তাহের খান, কালিপদ সরেন খেরওয়াল, অসিত কুমার মাল, জুন মালিয়া, মিতালি বাগ, খলিলুর রহমান, মালা রায়, শর্মিলা সরকার এবং ইউসুফ পাঠান।
এখন নজর পরবর্তী শুনানিতে
সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিসের ফলে ২০ সাংসদের অবস্থান নিয়ে আইনি লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল। এখন ওই সাংসদদের জবাবের দিকে নজর থাকবে। পাশাপাশি লোকসভা স্পিকার দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় চলা প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ করেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এখনও ২০ সাংসদের সাংসদপদ খারিজ হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নোটিস মূলত তাঁদের বক্তব্য জানার জন্য। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সাংসদপদ থাকবে কি না, তা পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
এই মামলাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরমহলের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নজরে। ফলে পরবর্তী শুনানিতে ২০ সাংসদের জবাব এবং স্পিকার কীভাবে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যান—সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
- ৪৮ ঘণ্টায় জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা দাবি, না হলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র
- উৎসবের আগেই চিনির দামে আগুন, চাপে বেকারি-মিষ্টান্ন শিল্প!
- বিহারে ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ! BPSC পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে পটনায় পড়ুয়াদের মিছিল, উত্তপ্ত পরিস্থিতি
- অরুণাচল সীমান্তে ‘সমস্যা আছে’, স্বীকার রিজিজুর; ৬০ কিমি চিনা অনুপ্রবেশের দাবি খারিজ!

