Heading Title
কলকাতা: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে কঠিন পরীক্ষার মুখে ইস্টবেঙ্গল। ২০২৬-২৭ মরশুমের গ্রুপ ডি-তে লাল-হলুদের সঙ্গে রয়েছে জর্ডনের আল-হুসেইন, ইরাকের আল-শোর্তা এবং ওমানের আল-সিব। অর্থাৎ এশিয়ার মঞ্চে এবার একেবারে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে হবে কলকাতার ক্লাবটিকে।
আল-আরাবির বিরুদ্ধে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনের পর গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। ১৩ অগস্ট সল্টলেক স্টেডিয়ামে কুয়েতের আল-আরাবিকে অতিরিক্ত সময়ে ৪-১ গোলে হারিয়ে এই সাফল্য আসে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে লাল-হলুদ।
গ্রুপে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আল-হুসেইন
জর্ডনের আল-হুসেইনকে এই গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মরশুমেও দলটি এশিয়ার প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছিল। এবার তাদের দলে রয়েছেন জর্ডনের একাধিক জাতীয় দলের ফুটবলার, যাঁরা সদ্য ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলেছেন।
জর্ডনের জাতীয় দল প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেয়। গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করেন এবং আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে জয় পায়।
এই ম্যাচেই জর্ডনের হয়ে মাঠে ছিলেন গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লায়লা এবং ডিফেন্ডার এহসান হাদ্দাদ। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন আল-হুসেইনের ফরোয়ার্ড মাহমুদ আল-মার্দি এবং শেষ মুহূর্তে নামেন ডিফেন্ডার সেলিম ওবেইদ। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির মতো তারকার বিরুদ্ধে সরাসরি খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে নামবেন তাঁরা।
এছাড়াও আল-হুসেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জর্ডন স্কোয়াডের আরও একাধিক ফুটবলার—সায়েদ আল-রোসান, রাজাই আয়েদ-সহ কয়েকজন। জর্ডনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আল-হুসেইনের একাধিক খেলোয়াড়ের উপস্থিতি ছিল।
শুধু জর্ডন নয়, ইরাকের আল-শোর্তাও কঠিন
ইস্টবেঙ্গলের আরেক প্রতিপক্ষ আল-শোর্তা। ইরাকের এই ক্লাবের একাধিক ফুটবলারও জাতীয় দলের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ইরাক ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মূলপর্বে ফিরেছিল এবং গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলেছে।
আল-শোর্তার স্কোয়াডে ছিলেন ইরাকের বিশ্বকাপ দলের গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল এবং ডিফেন্ডার মানাফ ইউনুস, আহমেদ ইয়াহিয়া ও মুস্তাফা সাদুন। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গলের সামনে শুধু ক্লাব ফুটবলের অভিজ্ঞতা নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফুটবলারদেরও মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ থাকছে।
বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা বনাম ইস্টবেঙ্গলের এশিয়ান স্বপ্ন
ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই গ্রুপ পর্ব তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে রয়েছে জর্ডনের আল-হুসেইন, যাদের কয়েকজন ফুটবলার সরাসরি মেসি-আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন। অন্যদিকে আল-শোর্তার রয়েছে বিশ্বকাপ-ফেরত ইরাকি ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা। আর আল-সিবও ওমানের অন্যতম পরিচিত ক্লাব।
তবে ইস্টবেঙ্গলও আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে মাঠে নামবে। আল-আরাবির বিরুদ্ধে ৪-১ জয় দেখিয়েছে, চাপের মুহূর্তেও দল ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অতিরিক্ত সময়ে মহম্মদ রশিদ, ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা ও রোহিত দানুর গোলেই জয় নিশ্চিত হয়েছিল।
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্ব। গ্রুপের ম্যাচগুলি হবে ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর, ১৩-১৪ অক্টোবর, ২৭-২৮ অক্টোবর, ৩-৪ নভেম্বর, ২৪-২৫ নভেম্বর ও ৮-৯ ডিসেম্বর।
এবার সেই প্রত্যাবর্তনের মানসিকতাই গ্রুপ পর্বে কাজে লাগাতে চাইবে লাল-হলুদ। বিশেষ করে ঘরের মাঠে আল-হুসেইন ও আল-শোর্তার মতো দলের বিরুদ্ধে পয়েন্ট আদায় করতে পারলে নকআউট পর্বের রাস্তা খুলে যেতে পারে।
আটটি গ্রুপ থেকে দু’টি করে মোট ১৬টি দল শেষ ষোলোয় উঠবে। ৯ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হবে সেই পর্ব। ২ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনাল ও ৬ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত হবে সেমিফাইনাল। ফাইনাল হবে ১৫ মে।
সমর্থকদের নজর এখন গ্রুপ পর্বে
ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন এশিয়ার মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ। প্রতিপক্ষের দলে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থাকা ফুটবলাররা থাকলেও কলকাতার ক্লাবটির লক্ষ্য পরিষ্কার—শুধু অংশগ্রহণ নয়, গ্রুপের বাধা পেরিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়া।
মেসিদের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারদের সামনে এবার লড়াই হবে লাল-হলুদ জার্সির। তাই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ অভিযান যে শুধু আর একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং নিজেদের এশিয়ান পরিচয় প্রতিষ্ঠার বড় মঞ্চ—তা বলাই যায়।
- এশিয়ান গেমসে ভারতের গোলবন্যা! ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-১ হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয়, রেকর্ড গড়লেন সবিতা
- ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ২২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল
- ‘চুরি’ করতে গিয়ে ধরা রোনাল্ডো! ম্যাচ হেরে প্রতিপক্ষের কটাক্ষে তুমুল চর্চা
- আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় লিওনেল মেসির, শেষ হল আর্জেন্টিনার জার্সিতে এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়

