Heading Title
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফের বাড়ছে H1N1 বা সোয়াইন ফ্লু-র সংক্রমণ। বিশেষ করে দিল্লি ও উত্তর ভারতের কয়েকটি এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেই জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশে নতুন কোনও H1N1 স্ট্রেনের সন্ধান মেলেনি। বর্তমানে যে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে, তা মূলত পরিচিত seasonal influenza-রই অংশ।
কতটা ভয়ঙ্কর এই H1N1?
H1N1 এখন আর ২০০৯ সালের মতো নতুন মহামারির ভাইরাস নয়। এটি বর্তমানে seasonal influenza-এর একটি অংশ হিসেবেই মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেশিরভাগ আক্রান্তের ক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগটি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা তৈরি করে গুরুতর আকার নিতে পারে।
ICMR-এর তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনও H1N1 স্ট্রেন শনাক্ত হয়নি। ফলে নতুন কোনও অজানা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে—এমন আশঙ্কার ভিত্তি নেই।
তাহলে কি সবাইকে নিতে হবে ফ্লু ভ্যাকসিন?
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সবার জন্য একইভাবে টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক—এমন কোনও নির্দেশ নেই। তবে seasonal influenza vaccine বিশেষ করে যাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ভারতের সরকারি নির্দেশিকায় উচ্চঝুঁকির গোষ্ঠীগুলিকে seasonal influenza vaccine দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে H1N1 সংক্রমণ গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি। যেমন—
- বয়স্ক মানুষ
- গর্ভবতী মহিলা
- ছোট শিশু
- হাঁপানি, COPD-সহ দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
- হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষ
- ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভোগা ব্যক্তি
- স্বাস্থ্যকর্মী, যাঁদের সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা বেশি
WHO-ও গর্ভবতী মহিলা, ছোট শিশু, বয়স্ক, নির্দিষ্ট দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের seasonal influenza-এর জটিলতার উচ্চঝুঁকির গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
টিকা নিলে কি H1N1 পুরোপুরি আটকানো যায়?
ফ্লু ভ্যাকসিন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এবং বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থতা, জটিলতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে। তবে কোনও ভ্যাকসিনই ১০০ শতাংশ সংক্রমণ আটকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রচলিত seasonal influenza vaccine-এর সঙ্গে circulating H1N1 ভাইরাসের সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
কী কী সাবধানতা জরুরি?
ভ্যাকসিনের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর, কাশি বা অন্যান্য ফ্লু-জাতীয় উপসর্গ দেখা দিলে অপ্রয়োজনে বাইরে বেরোনো এড়ানো, কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং ভিড় বা অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষ করে উচ্চঝুঁকির কোনও ব্যক্তির যদি শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা জ্বর, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আতঙ্ক নয়, সতর্কতাই মূল কথা
বর্তমান H1N1 পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ICMR-এর বার্তা পরিষ্কার—নতুন কোনও স্ট্রেনের কারণে এই সংক্রমণ বাড়েনি এবং অযথা আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। তবে seasonal influenza-এর সংক্রমণ বাড়ায় উচ্চঝুঁকির মানুষদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
তাই সবার জন্য আতঙ্ক নয়, বরং নিজের ঝুঁকি বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে influenza vaccination বিবেচনা করা এবং সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- ওজন কমাতে কোন পথ সবচেয়ে কার্যকর? ওষুধ, যোগাসন, জিম নাকি খাবার—জেনে নিন চমকে দেওয়া সত্য!
- হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর কী সংকেত দেয়? জীবন বাঁচাতে জানুন লক্ষণ, চিকিৎসা ও সেরে ওঠার জরুরি তথ্য!
- ব্যথা নেই, তবু পা অসাড়? শরীরে লুকিয়ে থাকা কোন সমস্যার সংকেত হতে পারে
- বর্ষা নামতেই মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক! বাড়ছে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার আশঙ্কা, সতর্ক থাকুন

